অপরাধ

ডাবল পরকীয়ার নায়িকা আলেয়া গ্রেফতার

0Shares

প্রবাসীর স্ত্রীর পরকীয়ায় মশগুল এক প্রেমিককে জীবন দিয়ে খেসারত দিতে হয়েছে। প্রেমিককে হত্যা করে আরেক প্রেমিকের সাথে উধাও হয়ে যাওয়ার আড়াই বছর পর প্রবাসীর স্ত্রী আলেয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টগেশন। আড়াই বছর আগে একটি লাশ অজ্ঞাত হিসেবে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। ক্লু-লেস এই হত্যার তদন্ত পেয়ে পিবিআই মাঠে নামে। দীর্ঘ আড়াই বছর শেষে হত্যার নেপথ্য থাকা হত্যাকারী চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করেছে পিবিআই। আলেয়া ইতোমধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়ে ঘটনার আদ্যোপান্ত বর্ণনা করেছে। নিহত যুবকের নাম শাকিল মির্জা। ঘটনাস্থল যাত্রাবাড়ি থানা এলাকা।

ঘটনার সূত্রপাত ঢাকা জেলার দোহার থানার দক্ষিণ জয়পাড়া গ্রামের। প্রবাসী কোরবান খানের স্ত্রী ২ সন্তানের জননী আলো আক্তার আলেয়ার প্রেমে পড়ে প্রতিবেশি যুবক শাকিল মির্জা। প্রায় আড়াই বছর আগে ২ জন ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। এরপর বিয়ে করেন তারা ১৪৭/১ দক্ষিণ যাত্রাবাড়ির বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতে থাকে। কিছুদিন পর সেখানে শাকিল মির্জার বন্ধু ইব্রাহিমের যাতায়াত শুরু হয়। এক পর্যায়ে আলেয়ার সাথে ইব্রাহিমের মধুর সম্পর্ক গড়ে উঠে। ইতোমধ্যে আলেয়া ইব্রাহিমের অর্থ সম্পদ হাতিয়ে নেয়। ইব্রাহিমও ওই ফ্ল্যাটে বসবাস শুরু করে। এতে আলেয়ার সাথে তার সম্পর্ক আরো গভীর হয়। এ অবস্থায় শাকিলকে ইব্রাহিম মদ্যপানে উদ্ধুদ্ধ করে এবং বাসায় তারা প্রায়ই মদপান করে। এরপর ২০১৬ সালের ২৫ জানুয়ারি শাকিল, ইব্রাহিম, রবিন, নাহিদ ও আলেয়া একসঙ্গে গভীর রাত পর্যন্ত মদপান করে। এরপর রাত ২টার দিকে রবিন ও নাহিদ বাসা থেকে চলে যায়। শাকিল রাতভর বমি করে। সকালেও মুখ দিয়ে লালা বের হতে থাকে এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। ইব্রাহিম বাইরে গিয়ে একটি সিরাপ এনে শাকিলকে খাওয়ায়। এতে শাকিলের শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি ঘটায় ইব্রাহিম বাইরে থেকে দরজা তালা দিয়ে চলে যায়। বাইরে গিয়ে ইব্রাহিম নাহিদ নামে এক বন্ধুকে বাসায় পাঠায় খোঁজ নেয়ার জন্য। অবস্থা বেগতিক দেখে নাহিদ ডাক্তার আনার কথা বলে পালিয়ে যায়। দরজায় বাইরে থেকে তালা বদ্ধ থাকায় আলেয়া ডাক চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় লোকজন তালা ভেঙ্গে ফেলে। এরপর আলেয়া শাকিলকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন। পথিমধ্যে শাকিল মারা যায়। আলেয়া সেখানে মৃতদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যান। ইব্রাহিমের সাথে অজনার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান। পুলিশ শাকিলের লাশ অজ্ঞাত পরিচয় হিসাবে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। ঘটনার দুই মাস পর শাকিলের পরিচয় শনাক্ত হয়। এরপর যাত্রাবাড়ি থানায় শাকিলের বাবা বাদী হয়ে ২০১৬ সালের ২০ মার্চ আলেয়া ও ইব্রাহিমকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে যাত্রাবাড়ি থানা হত্যা রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয়ে আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করেন।

কিন্তু ছেলে হত্যাকারীদের ছাড়তে নারাজ বাবা নুর ইসলাম। তিনি ওই রিপোর্টের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি দেন। আদালত মামলার তদন্তভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের ওপর ন্যস্ত করেন। ক্লু-লেস এই ঘটনা পিবিআই ডিআইজি বনজ কুমার নিজেই তদন্ত তদারকি শুরু করেন। প্রায় আড়াই বছর পর আলেয়া গত ২৮ এপ্রিল গ্রামের বাড়ি যায়। সেখানে আগে থেকেই সোর্স নিয়োগ করা ছিল। সোর্সের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ওই দিনই পিবিআই দোহারের দক্ষিণ জয়পাড়ায় হানা দিয়ে গ্রেফতার করে ‘ডাবল পরকীয়া’র নায়িকা আলো আক্তার আলেয়াকে। সে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা করে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। এরপর গত রবিবার রাতে যাত্রাবাড়ি থেকে ইব্রামিকেও গ্রেফতার করা হয়।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top