গণমত

অ্যালার্জির উপসর্গ ও চিকিৎসা

0Shares

অ্যালার্জি এক অসহনীয় ব্যাধি। কারো কারো ক্ষেত্রে জীবন দুর্বিষহ করে তোলে। হাঁচি হলো এবং নাক দিয়ে পানি পড়ল, এটা কোনো রোগ না ভাবার কারণ নেই। প্রথম স্বাভাবিক ঘটনা বলে মনে করার কারণ নেই। আপনাআপনি সেরেও যায় না। পুরনো জিনিসপত্র পরিষ্কার করতে গেলে, ফুলের গন্ধ নেওয়ার সময় বা ফুলবাগানে পায়চারি করতে গিয়ে প্রায় সময় যখন হাঁচি বা নাক বন্ধ হয়ে যায়, তখন এ লক্ষণগুলো রোগ হিসেবেই ধরে নিতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অ্যান্টিহিস্টামিনে কিছুটা কাজ হয় সত্য, কিন্তু বারবার হলে চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত; হোক স্থানীয় যে কোনো চিকিৎসক। পরবর্তী সময় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া ভালো। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অ্যান্টিহিস্টামিনের পাশাপাশি স্প্রে আকারে স্টেরয়েড নাকের নাসারন্দ্রে ব্যবহারের পরামর্শ দিতে পারেন। এতে অবশ্য রোগী আগের তুলনায় অনেক বেশি ভালো অনুভব করবেন।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, যতদিন নেসাল স্টেরয়েড ব্যবহার করেন, ততদিন ভালো থাকেন। যে-ই নাকের স্প্রে বন্ধ করেন, সঙ্গে সঙ্গে না হলেও কিছু দিন পর শুরু হয় আগের অবস্থা। এমন হলে আপনি অ্যালার্জিজনিত রোগ বিশেষ করে অ্যালার্জিক রাইনাইটিস রোগে ভুগছেন বলে ধরে নিতে হবে। এ রোগটি হলো অ্যালার্জিজনিত নাকের প্রদাহ।

উপসর্গগুলো হলো অনবরত হাঁচি, নাক চুলকানো, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া। কারো কারো চোখ দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল হয়ে যায়। কারো কারো সারা বছর আবার কারো কারো ঋতুনির্ভর এ রোগের লক্ষণগুলো দেখা দেয়।

সঠিক চিকিৎসা না নিলে পরবর্তী সময়ে অ্যাজমায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

অ্যালার্জেন পরিহার : যখন অ্যালার্জির সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায়, তখন তা পরিহার করে চললেই সহজ উপায়ে অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

ওষুধ প্রয়োগ : ওষুধ প্রয়োগ করে সাময়িকভাবে অ্যালার্জির উপশম অনেকটা পাওয়া যায়।

অ্যালার্জি ভ্যাকসিন : অ্যালার্জি জাতীয় দ্রব্য থেকে এড়িয়ে চলা ও ওষুধের পাশাপাশি ভ্যাকসিন বা ইমুনোথেরাপি অ্যালার্জিক রাইনাইটিস রোগীদের সুস্থ থাকার অন্যতম চিকিৎসা। তাই সময়মতো অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সেই সঙ্গে অ্যালার্জেন জাতীয় বস্তু পরিহার করতে হবে। একটি কথা মনে রাখা জরুরি, প্রতিকার নয়, প্রতিরোধ উত্তম। এ ছাড়া প্রাথমিক অবস্থা থেকে চিকিৎসা নিলে যে কোনো জটিলতা পরিহার করা যায়। থাকা যায় রোগমুক্ত। তাই রোগের প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা নিন, সুস্থ থাকুন সব সময়।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

To Top